অধরা সপ্নের ছোঁয়া পর্ব ৪

শহরের একপ্রান্তে বুড়িগঙ্গা নদীর পাড় ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা সেই ব্রিটিশ আমলের নীলকুঠিটা যেন নরকের প্রবেশদ্বার হয়ে দাঁড়িয়েছে। জরাজীর্ণ ভবনটার চারপাশে জঙ্গল এমনভাবে জেঁকে ধরেছে যেন কোনো দানব তার হাজারো হাত দিয়ে অট্টালিকাটাকে পিষে মারতে চাইছে। রাত তখন গভীর। আকাশে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সেই আলো এই কুঠির অন্ধকারের কাছে পরাস্ত হচ্ছে বারবার। ভাঙা জানালার শার্শি দিয়ে বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দটা যেন কোনো অতৃপ্ত আত্মার দীর্ঘশ্বাস।কুঠিরের একদম উপর তলার সেই বড় ঘরটাতে হ্যালোজেন বাল্বের হলদেটে আলোটা বারবার কাঁপছে। সেই আলোর স্পন্দনে দেওয়ালে পড়া ছায়াগুলো কখনো ছোট হচ্ছে, কখনো মানুষের মতো লম্বা হয়ে ভয় দেখাচ্ছে।


খালেদ খন্দকার সেই ঘরের মাঝখানে এক শক্ত লোহার চেয়ারে বসে আছেন। না, বসে নেই, তাকে আসলে লোহার শেকল দিয়ে চেয়ারের সাথে এমনভাবে পেঁচিয়ে রাখা হয়েছে যে তার বুকের পাঁজরগুলো লোহার চাপে করকর করছে। তার চোখের ওপর একটি কালো কাপড় বাঁধা। কানে বাজছে শুধু বৃষ্টির টুপটাপ শব্দ আর নিজের হৃৎপিণ্ডের প্রচণ্ড ধুকপুকানি।খালেদ খন্দকারের সারা শরীর ভিজে গেছে ঘামে। তিনি টের পাচ্ছেন তার কপাল বেয়ে ঘামের ফোঁটা চোখের কোণ দিয়ে নিচে গড়িয়ে পড়ছে। তিনি চিৎকার করতে চাইছেন, কিন্তু মুখে সাঁটা মজবুত টেপ সেই চিৎকারকে শুধু এক অদ্ভুত পৈশাচিক গোঙানিতে রূপ দিচ্ছে।


হঠাৎ সেই নিস্তব্ধতা ভেঙে একটা শব্দ হলো।


টিং... টিং... টিং...


কাঁচের গ্লাসে বরফ নাড়লে যেমন শব্দ হয়, ঠিক তেমন। কেউ একজন ঘরের কোণে খুব আয়েশ করে পানীয় পান করছে। খালেদ সাহেব নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে গোঙাতে লাগলেন। তিনি বুঝতে পারছেন, তার ঠিক পেছনেই কেউ একজন দাঁড়িয়ে আছে। লোকটা নিশ্বাস নিচ্ছে না, যেন সে কোনো মূর্তি।খালেদ অনুভব করলেন, একটা বরফ শীতল হাত তার কাঁধের ওপর রাখা হয়েছে। সেই হাতের স্পর্শে খালেদের শরীরের প্রতিটি লোম খাড়া হয়ে উঠল। হাতটা খুব ধীরগতিতে ওনার গলা বেয়ে ওপরে উঠল এবং এক ঝটকায় চোখের ওপর থেকে কালো কাপড়টা সরিয়ে দিল।


চোখ খুলতেই তীব্র আলোয় খালেদ প্রথমে কিছুই দেখতে পেলেন না। চোখ সয়ে আসতেই তিনি সামনে যা দেখলেন, তাতে ওনার আত্মা শুকিয়ে গেল। সামনে কেউ নেই, কিন্তু ঠিক ওনার পায়ের নিচে মেঝের ওপর পড়ে আছে ওনার নিজেরই মোবাইল ফোন। ফোনের স্ক্রিনটা জ্বলছে। সেখানে ভিডিও ফুটেজ চলছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে খালেদ খন্দকারের নিজের বাড়ির দুইটা বেডরুম। সেখানে ওনার স্ত্রী আর মেয়ে ঘুমাচ্ছে। আর একটা হাত সেখানে একটা খোলা ছুরি নিয়ে ওনাদের মাথার কাছে ঘোরাঘুরি করছে।


খালেদ সাহেব পাগলের মতো গোঙাতে লাগলেন, মাথা ঝাঁকাতে লাগলেন। ওনার চোখের মণি দুটো আতঙ্কে ঠিকরে বেরিয়ে আসতে চাইছে। ঠিক তখনই অন্ধকার কোণ থেকে লোকটা বেরিয়ে এল।তার পরনে কুচকুচে কালো লেদার জ্যাকেট আর কার্গো প্যান্ট। মাথায় হুডি টানা। মুখটা একটা বিশেষ 'সিলিকন মাস্ক' দিয়ে ঢাকা, মাস্কটা দেখতে একদম পচেঁ যাওয়া মানুষের চামড়ার মতো। বিভৎস সেই চেহারার কোটরে থাকা চোখ দুটোয় কোনো মায়া নেই, কেবল এক অগাধ ঘৃণা।


লোকটা কোনো কথা বলল না। সে একটা টেবিল টেনে আনল খালেদ সাহেবের ঠিক সামনে। টেবিলের ওপর রাখা একটা গ্রামোফোন রেকর্ডার। লোকটা আলতো করে রেকর্ডারের পিনটা বসিয়ে দিল। ঘরে বেজে উঠল এক করুণ ধ্রুপদী সুর। সেই সুরের তালে তালে লোকটা একটা বড় কাঁচের বয়াম থেকে একমুঠো নুন বের করে টেবিলে রাখল।সে একটা ছোট ছুরি দিয়ে খালেদ সাহেবের ডান হাতের তালুটা খুব আলতো করে চিরে দিল। চামড়া চেরার সেই 'ক্যাঁচ' শব্দটা খালেদের কানে বজ্রপাতের মতো বাজল। ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরোতেই লোকটা একমুঠো নুন সেই ক্ষতের ওপর চেপে ধরল।


"উউউউউউউউউউউহুমমমমমমমম


খালেদ এর শরীরটা চেয়ারসহ আছাড় খেয়ে মেঝেতে পড়তে চাইল। যন্ত্রণার এক এমন তীব্র ঢেউ ওনার মস্তিষ্ককে অবশ করে দিচ্ছে যা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। লোকটা ওনার মুখের টেপটা এক হ্যাঁচকায় ছিঁড়ে ফেলল।আর প্রথম বারের মতো মুখ খুলল।


"চিৎকার করিস না খালেদ। তোর এই আত্মচিৎকার এই দেয়ালের ভিতেই সীমাবদ্ধ।


লোকটার কথায়,খালেদ সাহেব আর্তনাদ করে উঠলেন।


"কে তুমি? কী চাও? টাকা? আমার সব নিয়ে নাও, আমাকে ছেড়ে দাও! 


লোকটা কোনো উত্তর দিল না। সে শান্ত ভঙ্গিতে তার পকেট থেকে একটা পুরনো, বিবর্ণ হয়ে যাওয়া স্টিলের লাইটার বের করল। আগুনের শিখাটা যখন জ্বলে উঠল, সেই হলদেটে আলোয় তার পচাঁ চামড়ার মাস্কটা আরও বীভৎস হয়ে দেখা দিল। সে লাইটারটা খুব কাছে নিয়ে এল খালেদ এর ক্ষতের যেখানে নুন আর রক্ত মিশে এক নরকীয় যন্ত্রণার সৃষ্টি করেছে।ঘরের কোণে রাখা সেই গ্রামোফোনের ধ্রুপদী সুরটা এখন আরও করুণ শোনাচ্ছে। লোকটা আগুনের শিখাটা খালেদ সাহেবের ক্ষতের ঠিক উপরে স্থির করে ধরে রেখেছে। আগুনের তাপে ক্ষতস্থানের নুনগুলো যেন গলতে শুরু করেছে, আর সেই যন্ত্রণায় খালেদ সাহেবের গলার রগগুলো ফুলে ফেঁপে উঠছে।লোকটা খুব শান্ত স্বরে বলল, 


"টাকা? খালেদ, তুই কি আসলেও ভাবিস সব কিছুর সমাধান টাকা দিয়ে হয়? কিছু অপরাধের বিচার মানুষের আদালতে হয় না, সেগুলোর জন্য আমার মতো নরকের দূত দের আসতে হয়।


সে লাইটারটা নিভিয়ে পকেটে রাখল। তারপর টেবিলের ওপর থেকে একটা চকচকে সার্জিক্যাল স্ক্যাল্পেল তুলে নিল। একজন দক্ষ সার্জনের মতো সে ছুরিটা আঙুলের ডগায় ঘোরাচ্ছে। তার প্রতিটি নড়াচড়া অত্যন্ত হিসেবী, কোথাও কোনো তাড়াহুড়ো নেই--ঠিক যেমনটা একজন ঠান্ডা মাথার সিরিয়াল কিলার করে থাকে।


"মানুষের শরীরটা অদ্ভুত।সেটা নিশ্চই জানিস! ঠিক কোন জায়গায় কতটুকু চাপ দিলে মানুষ মরে যায় না, কিন্তু মৃত্যুর চেয়েও বেশি যন্ত্রণা পায়--সেটা আমি খুব ভালো জানি। আজ রাতে আমি তোকে মারব না। আজ আমি তোকে শুধু অনুভব করাব।


লোকটা ঝুঁকে এল খালেদ এর দিকে। সিলিকন মাস্কের ভেতর দিয়ে তার চোখের মণি দুটো স্থির হয়ে আছে খালেদের ওপর। সে খুব নিচু গলায় ফিসফিস করে বলল, 


"তোর ওই সুন্দর বাড়ির ভিডিওটা দেখেছিস তো? ওটা তোরই পাপের প্রতিচ্ছবি। আমি চাইলে এক সেকেন্ডে তোর সব শেষ করে দিতে পারি, কিন্তু তাতে তো কোনো আনন্দ নেই। শিকারকে যতক্ষণ না পর্যন্ত তার পরিণতির কথা ভেবে তিলে তিলে শেষ হতে দেখা যায়, ততক্ষণ পর্যন্ত শিকারি তৃপ্তি পায় না।"


হঠাৎ লোকটা সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে একটা অদ্ভুত হাসি দিল। সেই হাসিতে কোনো শব্দ নেই, শুধু মাস্কের বিকৃত চামড়াগুলো কুঁচকে গেল। সে ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আগে ফোনের স্ক্রিনটা আবার খালেদ এর চোখের সামনে ধরল। ভিডিওতে এখন দেখা যাচ্ছে, ওনার স্ত্রীর শিয়রের কাছে রাখা টেবিল ঘড়িতে সময় টিকটিক করে এগিয়ে চলছে।


"পরবর্তী ২২ ঘণ্টা তোর জীবন, এই ভিডিওর ওপর নির্ভর করছে। প্রতি মিনিটে একবার করে তোর শরীরে আমি একটা করে 'স্মৃতি' উপহার দেব। দেখা যাক, তোর শরীর আগে হার মানে নাকি তোর বিবেক।


লোকটা ধীর পায়ে অন্ধকারের দিকে মিলিয়ে গেল। শুধু প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরে এল তার পায়ের জুতো আর মেঝের ঘর্ষণের শব্দ। ঠক... ঠক... ঠক...।


বাইরে বৃষ্টির ঝাপটা তখন অনেকটাই কমে এসেছে, শুধু ল্যাম্পপোস্টের আলোয় ভিজে থাকা রাস্তাটা চিকচিক করছে। আর্য হাতে একটা পলিথিন ব্যাগ নিয়ে নিঃশব্দে ফ্ল্যাটে ঢুকল। ভেবেছিল অরা হয়তো অস্থির হয়ে বসে আছে, কিন্তু ভেতরে ঢুকে দেখল দৃশ্যটা একদম ভিন্ন। ড্রয়িংরুমের সোফাটায় অরা একদম ছোট বাচ্চার মতো কুণ্ডলী পাকিয়ে ঘুমিয়ে আছে। ওর ভেজা চুলের কয়েকটা গোছা কপালে লেপ্টে আছে, আর মুখটা ঘুমে একদম মাসুম দেখাচ্ছে।


আর্য কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে অরাকে দেখল। এই মেয়েটা পাগল না হলে কেউ এভাবে অনিশ্চয়তার পথে পা বাড়ায়? ব্যাগটা টেবিলের উপর রেখে আর্য ফ্রেশ হতে চলে যায়। ফ্রেশ হয়ে এসে তোয়ালে দিয়ে চুল মুছতে মুছতে অরার সামনে এসে দাড়ায়, তারপর আলতো করে অরার কাঁধে হাত রাখে।ওকে ডাকতে শুরু করে।


"অরা''এই অরা, ওঠ।"


অরা কোনো সাড়া দিল না, শুধু ঘুমের ঘোরে একটু নড়েচড়ে বসল। আর্য আবার একটু জোরে ডাকল, 


"অরা, ওঠ। খাবার এনেছি, খেয়ে নে।


এবার অরা আধোবোজা চোখে তাকাল। চোখে রাজ্যের ঘুম আর ক্লান্তি। সে উঠে বসার চেষ্টা করল কিন্তু পরক্ষণেই আবার আর্যের দিকে ঢলে পড়ল। ওর চোখ দুটো কিছুতেই খুলছে না।

আর্য দীর্ঘশ্বাস ফেলে প্যাকেট থেকে গরম পরোটা আর সবজি বের করল। ও জানত অরা সারাদিন কিছু খায়নি। আর্য এক টুকরো পরোটা ছিঁড়ে অরার মুখের সামনে ধরল। অরা চোখ না খুলেই যান্ত্রিকভাবে মুখটা হাঁ করল। ও যে আসলে পুরোপুরি জেগে নেই, সেটা ওর চিবানোর ভঙ্গি দেখেই বোঝা যাচ্ছে।ওকে এভাবে খেতে দেখে আর্য ওকে জিজ্ঞাস করল।


"তুই কি ঘুমিয়েই খাবার খাবি?" 


অরা বিড়বিড় করে কিছু একটা বলল, যার অর্থ উদ্ধার করা অসম্ভব। ও হঠাৎ ঘুমের ঘোরে টাল সামলাতে না পেরে আর্যের শক্ত বুকের ওপর মাথাটা এলিয়ে দিল। দুহাতে আর্যের কোমরটা জড়িয়ে ধরল ছোট বাচ্চাদের মতো। আর্যর শরীরের উষ্ণতা পেয়ে যেন ওর ঘুমটা আরও জাঁকিয়ে বসল।আর্য মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। ওর হৃদস্পন্দন কি একটু বেড়ে গেল? ও নিজেকে সামলে নিয়ে আবার এক টুকরো রুটি অরার মুখে তুলে দিল। অরা চোখ বন্ধ করেই পরম শান্তিতে চিবুচ্ছে আর মাঝে মাঝে আর্যের বুকে নাক ঘষছে অরা।আর্য স্থির হয়ে বসে রইল। ওর বুকের ওপর অরার নিঃশ্বাসের ওঠানামা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। মেয়েটা যেন এক টুকরো মেঘের মতো ওর ওপর ভর করে আছে। লাইটের হলদেটে আলোয় অরার মুখের দিকে তাকিয়ে আর্যর মনে হলো, কিছু সৌন্দর্য আসলে আশীর্বাদ নয়, অভিশাপ।অরার গায়ের রঙটা ঠিক দুধে-আলতা ভোরের প্রথম রোদে ধুয়ে যাওয়া শিউলি ফুলের মতো শুভ্র আর স্নিগ্ধ। ঘুমের ঘোরে ওর দীর্ঘ চোখের পাপড়িগুলো যখন গালের ওপর ছায়া ফেলেছে, তখন ওকে কোনো রক্ত-মাংসের মানবী বলে মনে হয়। ওর খাড়া নাক আর পাতলা ঠোঁটের ওপর একটা অদ্ভুত বিষণ্ণতা লেগে থাকে সবসময়।ছোটবেলা থেকেই অরার এই রূপ ওর চারপাশের মানুষের জন্য ছিল এক পরম বিস্ময়।


বেশি সুন্দরী হওয়ার কারণে অরা কখনো সাধারণ মেয়েদের মতো স্বাধীনভাবে বড় হতে পারেনি। স্কুলে যাওয়ার পথে বখাটেদের লোলুপ দৃষ্টি, বা কোনো অচেনা মানুষের অহেতুক তাকিয়ে থাকা--সবকিছুই ওকে খুব ছোটবেলা থেকে কুঁকড়ে থাকতে শিখিয়েছে। ওর মা সবসময় ওকে আগলে রাখতেন, যেন এই রূপই ওর সবচেয়ে বড় শত্রু আত্মীয়-স্বজনের ভিড়েও অরাকে নিয়ে চাপা গুঞ্জন চলত। কেউ কেউ হিংসা করত, আবার কেউ বলত, 


"এত রূপ নিয়ে মেয়েটা সুখে থাকতে পারবে তো? নজর লাগতে সময় লাগে না।


একবার কৈশোরে এক পাগলপ্রায় যুবক ওর পথ আটকে দাঁড়িয়েছিল শুধু ওকে একবার ছোঁয়ার জন্য। সেই ঘটনার পর থেকে অরা মানুষের ভিড় দেখলে ভয় পেত।আর সেজন্য নিজের কোনো বন্ধু বান্ধবী ও বানায়নি এখন ও পযন্ত কোনো।সারাদিন পড়াশুনা আর ইউটুবে এ ব্লগ করে ওর সময় পার করে।ও বুঝত, ওর সৌন্দর্য মানুষের মনে ভালোবাসার চেয়ে লালসা আর দখল করার ইচ্ছেটাই বেশি জাগিয়ে তোলে। তাই আয়নার সামনে দাঁড়ালে ও নিজের রূপ দেখে আনন্দ পেত না, বরং এক অজানা আশঙ্কায় ওর বুক কাঁপত। 


আর্যর বুকের উষ্ণতায় অরা আরও একটু মিশে গেল। ওর অবিন্যস্ত চুলের মাঝ দিয়ে দেখা যাচ্ছে কানের লতিটা, যা ভোরের আকাশের মতো স্বচ্ছ। আর্য আলতো করে ওর কপালে জমে থাকা এক ফোঁটা ঘাম মুছে দিল।হঠাৎ ই ওর হৃদয় বলে উঠল। 'এই নারীতো এখন তোমার, শুধুই তোমার একান্ত ব্যাক্তিগত নারী। কিন্তু আর্য বিষয়টাকে একদম পাওা দিল না। ওর মতে নিজের শূন্য জীবনে ও অরাকে জড়িয়ে অরার জীবন নষ্ট করতে ইচ্ছুক নয়। বরং এখানে কিছুদিন থাকার পর অরা নিজেই, পরিবেশ এর সঙ্গে খাপঁ খায়িয়ে নিতে না পেরে এখান থেকে চলে যাবে। আর সেজন্য ও আর অরাকে কিছুই বলে নি।আর বিয়ের পর অরাকে বলা কথাগুলো ভেবে ওর প্রচন্ড গিল্ট ফিল হচ্ছে। আর্য তো তখন ওসব কথা রাগের মাথায় বলে ফেলেছিলো, যে সে অরার জীবন নরক বানিয়ে দিবে। কিন্তু আর্য মোটেও সেইরকম কিছুই করতনা, ও জানে এখানে অরার কোনো দোষ নেই, আর আর্য কখনোই আমালের রাগ অরার উপর ছাড়ার কথা ভাবতেই পারেনা।আমাল ওকে ধোঁকা দিয়েছে টাকার লোভে, কিন্তু ও তো সত্যিই আমালকে ভালোবেসেছিলো। আমাল এইরকম টা করতেই পারে, এটা ওর পূনঅধিকার রয়েছে। যেহেতু ও আর্যর জিবন থেকে চলে গেছে, সেই অনুযায়ী ভালোই করেছে, কারন আর্য ভালোবাসা বিহীন একটা সম্পর্ক রাখতে চায়না। আর বাকি রইল ওর বাবা মায়ের কথা, তাহলে তাদের উপর ও আর্যর কোনো রাগ নেই। কারন তারা সময়মতো ওকে ওর ভুল সিদ্ধান্ত টাকে আঙ্গুল দিয়ে ধরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু ওর বাড়ি ছাড়ার কারন ছিল অন্যকিছু। যেটা ছিল সম্পূর্ন ওর ব্যাক্তিগত ইশু। এসব কিছু ভাবনার মাঝেই আর্য অরাকে খাবার খাওয়ানো শেষ করল। তারপর সেই জায়গাটা পরিষ্কার করে ফেলল। আর এদিকে অরা আবার সেই সোফায় গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল।সবকিছু গুছিয়ে রেখে আর্য অরার পাশে এককোনে সোফায় বসে পড়ল।অরার জন্য খাবার নিয়ে আসার সময় আর্য দোকানেই খেয়ে এসেছে। আর অরার জন্য খাবার বাসায় নিয়ে এসেছে। সারাদিন এর এত ধকল আর ক্লান্তি শরীরটাকে সোফায় এলিয়ে দিতেই আর্যর চোখে রাজ্যের ঘুম এসে হানা দিল, আর ও খুব সন্তর্পনে অরার থেকে দুরুত্ব বজায় রেখে ঘুমিয়ে পড়ল।


চলবে,,,,,,,,

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url